সাধারণের নাগালে কি ফিরছে স্বর্ণ? বাজুসের বড় ঘোষণায় খুশির আমেজ বাজারে

দেশের বাজারে স্বর্ণের অলঙ্কারের দাম আরও একবার হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্য সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে। সবচেয়ে উন্নত মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম একলাফে কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাজুসের ‘মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি’ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস কর্তৃপক্ষ। নতুন তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের বাজার দর ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। হুট করে দাম কমায় বিয়ের মরসুমে সাধারণ মানুষের গহনা কেনার ‘বাজেট’ কিছুটা সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজার দর দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বিক্রি হবে। উল্লেখ্য, গতকাল সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসলেও রুপার বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। রুপার দাম বর্তমানে আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকাই বহাল রাখা হয়েছে।

দেশের খুচরা বাজারে সাধারণত স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়। ক্রেতারা এখন তাদের ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহার করে বাজুসের অফিসিয়াল পোর্টাল বা সংবাদমাধ্যম থেকে সর্বশেষ দরের আপডেট বা ‘নোটিফিকেশন’ গ্রহণ করছেন। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ‘ডেডলাইন’ বা দর সংশোধন করা হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।