স্মৃতিশক্তি কি কমে যাচ্ছে? মস্তিষ্কের ধার বাড়াতে ডা. শ্রীকান্তের জাদুকরী খাদ্যতালিকা

আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে সুস্থ ও ক্ষুরধার মস্তিষ্কের কোনো বিকল্প নেই। অফিসের কঠিন ‘ডেডলাইন’ সামলানো হোক কিংবা পড়াশোনায় মনোনিবেশ—সবক্ষেত্রেই আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা থাকা চাই তুঙ্গে। তবে ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই আমাদের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্নে অবহেলা করি। বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি ভারতের প্রথিতযশা নিউরোসার্জন ডা. শ্রীকান্ত শর্মা এক বিশেষ প্রতিবেদনে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধির এক অনন্য ‘প্যাকেজ’ বা খাদ্যতালিকা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বয়স বা জিনগত বৈশিষ্ট্য আমাদের হাতে না থাকলেও, প্রতিদিনের সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে আমরা মস্তিষ্ককে অনেক বেশি সচল ও শক্তিশালী রাখতে পারি।

ডা. শ্রীকান্ত শর্মা জানান, মানুষের মস্তিষ্ক ওজনের দিক থেকে ছোট হলেও এটি শরীরের মোট সঞ্চিত শক্তির বা ‘এনার্জি’র প্রায় ২০ শতাংশ একাই খরচ করে। তাই পুষ্টির সামান্যতম ঘাটতি সরাসরি আমাদের মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য ৫টি বিশেষ দিক খেয়াল রাখা জরুরি:

১. অন্ত্র ও মস্তিষ্কের গভীর সংযোগ: চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’। পাকস্থলী বা অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরাসরি আমাদের মেজাজ ও শেখার ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। এ জন্য নিয়মিত দই, ঘোল, ছোলা ও রাজমার মতো প্রো-বায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

২. স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ওমেগা-৩: মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জাদুর মতো কাজ করে। ডা. শর্মা স্যালমন ও সারডিন মাছের পাশাপাশি নিরামিষভোজীদের জন্য আখরোট ও তিসির বীজকে এই উপাদানের সেরা উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ কমাতেও সহায়ক।

৩. রঙিন সবজির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: আমাদের মস্তিষ্ককে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ বা ক্ষয় থেকে বাঁচাতে খাদ্যতালিকায় বেরিজ, পালং শাক, টমেটো, গাজর ও বিট রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই রঙিন খাবারগুলো মূলত মস্তিষ্কের জন্য এক ধরণের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে।

৪. অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২: ভিটামিন বি৬, বি১২ এবং ফোলেটের অভাব স্মৃতিশক্তি হ্রাসের প্রধান কারণ হতে পারে। ডা. শ্রীকান্ত শর্মা বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন যে, বি১২-এর প্রাকৃতিক উৎস মূলত প্রাণিজ খাদ্য। তাই যারা নিরামিষভোজী, তাঁদের জন্য দুগ্ধজাত পণ্য বা বিশেষ ‘ফোর্টিফায়েড’ খাবার গ্রহণ করা অপরিহার্য, অন্যথায় স্নায়ুর কার্যকারিতা থমকে যেতে পারে।

৫. জটিল কার্বোহাইড্রেট ও গ্লুকোজ: মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি হলো গ্লুকোজ। তবে চিনিযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, যা মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করে। এর পরিবর্তে ওটস, মিলেট ও পূর্ণ শস্য জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি পায়।

পরিশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল ভালো খাবার খেলেই হবে না; বরং পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের একটি সুষম জীবনধারা বা ‘হেলদি লাইফস্টাইল’ বজায় রাখাই হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। হাতের ‘স্মার্টফোন’ যেমন নিয়মিত চার্জ দিতে হয়, আমাদের মস্তিষ্ককেও ঠিক তেমনি সঠিক খাবারের মাধ্যমে সতেজ রাখা প্রয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।