সুইমিংপুলে মিলল নিথর দেহ: রহস্যময় মৃত্যুতে স্তব্ধ ফরাসি অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের এক অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব নাদিয়া ফারেস আর নেই। গত ১৭ এপ্রিল, শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্যারিসের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই শক্তিমান অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার। তবে তাঁর প্রয়াণের নেপথ্যে থাকা ঘটনাটি ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর বিষাদ ও বিস্ময় তৈরি করেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ‘ক্রীড়া কমপ্লেক্স’-এর সুইমিংপুলে নাদিয়া ফারেসকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে প্যারিসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ বা কৃত্রিমভাবে ‘কোমা’-তে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর হৃদযন্ত্র আর সাড়া দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৭ এপ্রিল চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নাদিয়া ফারেসের দুই কন্যা—সিলিয়া এবং শানা এক আবেগঘন বিবৃতিতে তাঁদের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘ফ্রান্স কেবল একজন মহান শিল্পীকে হারাল না, আমরা আমাদের ছায়াসঙ্গী মা-কে হারালাম।’ অভিনেত্রীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং চলচ্চিত্র জগতের বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা।

১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্মগ্রহণ করা নাদিয়া ফারেস বড় হয়েছেন ফ্রান্সের নিস শহরে। কৈশোরেই অভিনয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন আলোকোজ্জ্বল শহর প্যারিসে। ১৯৯২ সালে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ২০০০ সালে সাড়াজাগানো ‘পুলিশি থ্রিলার’ সিনেমা ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি হলিউডেও সফলতার সাথে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মারদাঙ্গা সিনেমা ‘ওয়ার’-এ ‘এজেন্ট জেড কিনলার’ চরিত্রটি তাঁকে বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। একই বছর ‘স্টর্ম ওয়ার্নিং’ সিনেমাতেও তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলসভিত্তিক ‘প্রযোজক’ স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করার পর নাদিয়া ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ী হন এবং সন্তানদের সময় দিতে অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে তিনি পুনরায় অভিনয়ে ফেরেন। ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২২ সালে তিনি চিরস্থায়ীভাবে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

নাদিয়া ফারেসের এমন রহস্যময় ও আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ একটি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে ফিগারো’। যদিও প্রাথমিক তদন্তে কোনো প্রকার ‘ফাউল প্লে’ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, তবুও সুইমিংপুলে তিনি কীভাবে সংজ্ঞাহীন হলেন, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর এমন প্রস্থান ইউরোপীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।