"বিদেশের মঞ্চেও আমার বড় অংশ শ্রোতা বাংলাদেশি": ঢাকা সফরে এসে আবেগপ্রবণ শ্রীকান্ত আচার্য

সুরের জাদুকরী মূর্ছনায় দুই বাংলার শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে নিয়েছেন ওপার বাংলার প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। তবে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর টান কেবল সুরের নয়, বরং নাড়ির। যাঁর পূর্বপুরুষের আদি নিবাস ময়মনসিংহের পুণ্যভূমিতে, সেই মানুষটি যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন তিনি খুঁজে পান তাঁর হারানো শিকড়ের ঘ্রাণ। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের রঙিন আমেজ আর বসন্তের বিদায়বেলায় সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন এই গুণী শিল্পী, যা তাঁর জন্য হয়ে উঠেছে এক অনন্য আবেগঘন অভিজ্ঞতা।

দেশ মিডিয়ার বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের সফরে শ্রীকান্ত আচার্য কেবল গানের অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো সময়টা দিচ্ছেন তাঁর শিকড় এবং ঘনিষ্ঠজনদের। সপরিবারে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে। এরই মধ্যে তিনি পরিবারসহ রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন। দীর্ঘ ২৬ বছরের বাংলাদেশ সফরের ইতিহাসে এই প্রথম তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সুরম্য স্থাপনা ও ধর্মীয় আবহে সিক্ত হলেন। বৈশাখী উৎসবের প্রানবন্ত মেজাজে মন্দির প্রাঙ্গণে সময় কাটিয়ে শিল্পী তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

সফর প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ শ্রীকান্ত আচার্য বলেন, "২০০০ সাল থেকে আমি নিয়মিত বাংলাদেশে আসছি। এই দীর্ঘ ২৬ বছরে ঢাকা তো বটেই, বাংলাদেশের নানা প্রান্তে আমার পদচিহ্ন পড়েছে। কিন্তু ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসার সুযোগ হয়নি আগে, এবার সপরিবারে এসে সেই অপূর্ণতা ঘুচল। উৎসবের এই আবহে এমন ঐতিহাসিক স্থান দেখে আমি সত্যি অভিভূত।"

সাংস্কৃতিক ভ্রমণের অংশ হিসেবে গত বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীকান্ত আচার্য ঢাকার সুপরিচিত প্রকাশনী সংস্থা ‘বাতিঘর’-এ যান। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় বইয়ের রাজ্যে ডুবে থাকেন এবং বিভিন্ন লেখকের রচনার খোঁজখবর নেন। সংগীতের পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি তাঁর এই অনুরাগ উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

বাংলাদেশি শ্রোতাদের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা চিরকালই অপরিসীম। শ্রীকান্ত জানান, বিশ্বের যেখানেই তিনি গান গাইতে গিয়েছেন—তা হোক লন্ডন কিংবা নিউইয়র্ক—সবখানেই তাঁর শ্রোতাদের একটি বিশাল অংশজুড়ে থাকেন বাংলাদেশিরা। বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজ পতাকার মানুষেরা যেভাবে তাঁর গানকে পরম মমতায় আগলে রাখেন, তা তাঁকে বারবার বাংলাদেশে আসার প্রেরণা দেয়। সুরের এই ফেরিওয়ালার মতে, বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও আতিথেয়তা তাঁর সংগীত জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।