বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন ও চলচ্চিত্রের অত্যন্ত পরিচিত মুখ তারিকুজ্জামান তপন এখন এক চরম সংকটের মুখোমুখি। মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অসম লড়াইয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে তাঁকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ গ্রিন লাইফ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁর পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আর্থিক সহায়তার জন্য করুণ আবেদন জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে অভিনেতার শারীরিক পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে তাছফিক। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা কিছু সময় আগে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন। আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’ তাছফিক তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, বেসরকারি হাসপাতালের আকাশচুম্বী ব্যয় বহন করা তাঁদের পরিবারের জন্য এখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি তাঁর বাবাকে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তরের বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন, তবে সেটি তাঁদের জন্য এক বিশাল ‘লাইফলাইন’ হতে পারে।
গতকাল বুধবার সকালেই অভিনেতার স্ত্রী সাবিনা হেলেন তাঁর স্বামীর যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে দেশ মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তপনের খাদ্যনালির ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছিলেন যে, রোগটি ইতিমধ্যে ‘চতুর্থ পর্যায়ে’ (Stage 4) পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যে তাঁকে তিনটি কেমোথেরাপি দেওয়া হলেও কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি। সাবিনা হেলেনের ভাষ্যমতে, ক্যানসারের ভয়াবহতায় অভিনেতা এখন কোনো কিছু খেতে পারছেন না এবং অবিরত বমি ও তীব্র শারীরিক ব্যথায় ছটফট করছেন।
চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক অনটনের শিকার। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে তপনকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হলেও আইসিইউ বেড বা শয্যা খালি না থাকায় তাঁকে সেখানে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই অত্যন্ত ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে তাঁকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।
তারিকুজ্জামান তপন একজন অত্যন্ত দক্ষ ও গুণী অভিনেতা হিসেবে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। বিশেষ করে কমেডি বা হাস্যরসাত্মক চরিত্রে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর অভিনীত ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’ ও ‘যা ছিল অন্ধকারে’ চলচ্চিত্রগুলো প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া ছোট পর্দায় ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’, ‘অল্পে গল্পে’ ও ‘মৃত্তিকার যাত্রা’র মতো নাটকে তাঁর সাবলীল উপস্থিতি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। শোবিজ অঙ্গনের এক সময়ের এই কর্মচঞ্চল মানুষটি আজ হাসপাতালের শীতল কক্ষে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। প্রিয় এই শিল্পীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে শিল্পী সমাজ ও সরকারকে এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।