সাফের ফাইনালে বাঘিনীদের দাপট দেখছেন ভারত কোচ? মাঠের লড়াইয়ের আগে কেন এত হতাশ ক্রিস্পিন ছেত্রী?

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত মঞ্চ এখন প্রস্তুত। আগামী শনিবার গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত। তবে এই মেগা ফাইনালের আগে বেশ চাপে রয়েছে ভারতীয় শিবির। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের ঘামঝরানো জয়ের পর খোদ ভারতীয় কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী তাঁর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যে কড়া সমালোচনা করেছেন, তা ফুটবল মহলে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

গতকাল গভীর রাতে সেমিফাইনাল শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্পিন ছেত্রী অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর দল মোটেও ভালো খেলেনি। দার্জিলিংয়ের এই অভিজ্ঞ কোচের মতে, ভুটানের বিপক্ষে জয়টি তাঁদের প্রাপ্য ছিল না। তিনি বলেন, "ভুটানের মেয়েরা একেকজন যোদ্ধার মতো লড়েছে। আমরা ভাগ্যগুণে জিতেছি, কিন্তু মাঠের খেলায় আমরা মোটেও সন্তোষজনক ছিলাম না। ফুটবল কেবল কৌশলের লড়াই নয়, এটি মনেরও খেলা; যা গতকাল ভুটান আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে।"

ফাইনালের মহারণে বাংলাদেশের শক্তিমত্তা নিয়ে বেশ সচেতন ভারত। ক্রিস্পিন ছেত্রী মনে করেন, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ফাইনালে তাদের পূর্ণ শক্তি এবং সেরা ছক নিয়েই মাঠে নামবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফাইনাল মানেই স্নায়ুচাপের এক চরম পরীক্ষা। তবে এই লড়াইয়ের আগে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা ঘরের মাঠের বাড়তি সুবিধার বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। গ্যালারিতে ভারতীয় দর্শকদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মাঠে কোনো ভারতীয় দর্শক দেখেছেন? দর্শকহীন এই মাঠকে আমার কাছে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুর মতোই মনে হচ্ছে।"

কোচ ছেত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের জন্য তাদের হাজারখানেক সমর্থক গ্যালারিতে উপস্থিত থাকলেও ভারতের নিজের মাটিতেই তাদের সমর্থকেরা মাঠবিমুখ। ফলে গ্যালারির সমর্থন ছাড়াই তাঁদের লড়তে হবে সাবিনা-কৃষ্ণাদের বিপক্ষে। তাঁর দৃষ্টিতে ফাইনালটি হবে একদম ‘ফিফটি-ফিফটি’ লড়াই। তিনি বিশ্বাস করেন, ফাইনালে যে দল প্রথম গোল করতে পারবে, তাঁরাই মানসিকভাবে এগিয়ে যাবে এবং শিরোপা জয়ের পথে একধাপ এগিয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে বাংলাদেশের জয়কে সমীহ করছেন ভারতীয় কোচও। এখন দেখার বিষয়, শনিবারের এই ‘মহা-ফাইনাল’ শেষ পর্যন্ত কার শোকেসে ট্রফি নিয়ে যায়—টাইগ্রেসদের রাজকীয় রক্ষণ নাকি ভারতের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জেদ? পুরো দক্ষিণ এশিয়া এখন তাকিয়ে আছে গোয়ার সবুজ গালিচার দিকে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।