বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে উন্মাদনা এখন চরমে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই যেন এক অর্থনৈতিক মহাযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বের এই মহা-মঞ্চে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট সংগ্রহের লড়াইয়ে নামা দর্শকদের পকেট থেকে খসে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে বিভিন্ন দ্বিতীয় স্তরের বিক্রয় ‘প্লাটফর্ম’—সবখানেই এখন টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করলে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে একটি বিশেষ আসনের দাম বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা চললেও ফাইনাল ঘিরে সেই বিতর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শনিবার সকালে ফিফার নিজস্ব ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির জন্য সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছিল ৬,৪১১.২৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, চড়া দাম হওয়া সত্ত্বেও ভক্তদের প্রবল আগ্রহের মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ‘বাজেট’ মূল্যের টিকিটগুলো বিক্রি হয়ে যায়। এরপর থেকে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম শুরুই হচ্ছে ১০ হাজার ডলার বা প্রায় ১২ লাখ টাকা থেকে। যারা মাঠের ঘাসের খুব কাছাকাছি বসে খেলোয়াড়দের পেশির টান দেখতে চান, তাঁদের গুণতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিলাসবেষ্টিত ‘হসপিটালিটি’ বা ভিআইপি আসনের দাম ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার ডলারের ঘর, যা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অকল্পনীয়।
আন্তর্জাতিক টিকিট বাজার তদারকি করা সংস্থা ‘সিটগিক’ ও ‘স্টাবহাব’-এর পরিসংখ্যানেও একই ধরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানেও স্টেডিয়ামের আপার ডেক বা ওপরের তলার কর্নারগুলোর টিকিট ১০ হাজার ডলারের নিচে মিলছে না। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই চরম আর্থিক মূল্য পরিশোধের পেছনে রয়েছে কয়েকটি ঐতিহাসিক কারণ। প্রথমত, এটি সম্ভবত ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে এসে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতানোর এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের উত্থান ফুটবল বিশ্বকে এক নতুন দ্বৈরথের স্বাদ দিতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো বড় কোনো মঞ্চে মেসি ও ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখার সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চাইছেন না।
উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আজ মাঠে নামছে তাদের চতুর্থ শিরোপার খোঁজে। যদি তারা জয়ী হয়, তবে ১৯৬২ সালের পর ব্রাজিলীয় রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। বিপরীতে স্পেন ২০১০ সালের সেই গৌরবময় স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে। চলতি আসরে মেসি ইতোমধ্যেই ৮টি গোল ও ৪টি ‘অ্যাসিস্ট’ করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন। ইতিপূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার প্রস্তাবিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় আজকের এই ফাইনালটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একমাত্র পরম পাওয়া। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তাই আজ কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং এক রাজকীয় আভিজাত্যের লড়াই দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।