সংসদ সদস্যদের জন্য এবার ‘জোড়া শপথ’: নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে আলী রীয়াজের বড় ঘোষণা

সংসদ সদস্যদের জন্য এবার ‘জোড়া শপথ’: নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে আলী রীয়াজের বড় ঘোষণা

ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিদের কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই নয়, বরং এক বিশেষ দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হবে। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ ‘ব্রিফিং’-এ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।


আলী রীয়াজ জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবার দুটি পৃথক বিষয়ে শপথ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, তাঁরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেবেন এবং দ্বিতীয়ত, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে তাঁরা অতিরিক্ত একটি শপথ পাঠ করবেন। মূলত দেশের রাষ্ট্রকাঠামো আমূল পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা থেকে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


বক্তব্যের এক পর্যায়ে আলী রীয়াজ গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “বাংলাদেশের আপামর জনতা অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্বিধাহীনভাবে জুলাই সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের রায় প্রদান করেছেন। এটি মূলত জুলাই বিপ্লবের এক বিশাল স্বীকৃতি এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনতান্ত্রিক অনাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি দেশপ্রেম ও আন্তরিক ‘কমিটমেন্ট’ থাকে, তবেই এই ঐতিহাসিক জুলাই সনদ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।


নির্বাচনের পরিসংখ্যান ও জনমতের ব্যবধান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আলী রীয়াজ একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেখা গেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে প্রায় এক শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের একটি অংশ কেবল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার চেয়ে দেশের শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য ‘গণভোটে’ অংশ নিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। দেশের অধিকাংশ মানুষ যে আর পুরোনো ঘুণে ধরা ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।


পরিশেষে আলী রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের এই ম্যান্ডেট বা অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করবে। এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সংলাপ ও জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এখন দেখার বিষয়, নতুন সংসদের এই ‘জোড়া শপথ’ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কতটা টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।