বঙ্গভবন নয়, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ: প্রস্তুত ৫০ গাড়ি, আমন্ত্রণ পাচ্ছেন বিশ্বনেতারাও

বঙ্গভবন নয়, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ: প্রস্তুত ৫০ গাড়ি, আমন্ত্রণ পাচ্ছেন বিশ্বনেতারাও

দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত এই মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।


সংসদ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিজনিত আইনি জটিলতা এড়াতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের এই শপথ পাঠ করাবেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে ৩শ আসনের বিপরীতে ২৯৭টি আসনের গেজেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বর্তমানে দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত থাকলেও সেগুলোতে বিএনপি প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন।


এবারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে এক নতুন প্রথা বা ঐতিহ্যের সূচনা হতে যাচ্ছে। সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের ‘সাউথ প্লাজা’ বা দক্ষিণ প্লাজায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই উন্মুক্ত চত্বরে প্যান্ডেল নির্মাণসহ যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। নতুন সরকারের ‘ক্যাবিনেট’ বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের চলাচলের জন্য সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর থেকে রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম ও ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডযুক্ত ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪৭ জন দক্ষ চালককে এই দায়িত্বের জন্য মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গানম্যান’ ও বিশেষ প্রটোকল টিমের মহড়াও সম্পন্ন হয়েছে।


শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বেশি প্রায় এক হাজার বিশিষ্ট অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের এই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আমন্ত্রণের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ অর্জন করে। তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সংস্কার প্রক্রিয়ার পর এই নির্বাচনকে দেশবাসী তাদের মালিকানা ফিরে পাওয়ার একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সরকারের অভিষেক কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং দেশের সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পথে এক নতুন ‘মাইলফলক’ হতে যাচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।