গুম সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য পৃথক ‘গুম অধ্যাদেশ’ জারি করাকে একটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, গুমের মতো গুরুতর অপরাধটি বিচার করার পর্যাপ্ত আইনি সুযোগ আগে থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সুসংহত বা সংবিধিবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। আজ জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের একটি সংশোধনী বিল পাস হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে ‘গুম’ (Enforced Disappearance) বিষয়টি সরাসরি ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সংসদে বিলটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী একে গুমের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি সংসদ কর্তৃক পাস হওয়া সংশোধনী বিলের কপিটি এখনো হাতে পাইনি। তবে আমি আন্তরিকভাবে শুকরিয়া জানাচ্ছি যে, গুম অধ্যাদেশ যদি এখন বাতিল হয়ে সরাসরি ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে, তবে এটি হবে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এজন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমার ব্যক্তিগত ও পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়েছে, গুম অধ্যাদেশটি আদতে একটি অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে পরিধি, তাতে গুমের অভিযোগের বিচার করার জন্য আমাদের যথেষ্ট এখতিয়ার আগে থেকেই অর্পিত ছিল। এর জন্য আলাদা কোনো অধ্যাদেশ জারি করা কিংবা নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কোনো বিশেষ প্রয়োজনীয়তা ছিল না।”
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মনে করেন, পৃথক অধ্যাদেশ না রেখে বিষয়টিকে ট্রাইব্যুনাল আইনের সাথে একীভূত করা একটি সঠিক এবং যৌক্তিক আইনি কৌশল। এর ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং আইনের কোনো মারপ্যাঁচে অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই সমন্বিত আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সকাল ১০টার পর থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। চিফ প্রসিকিউটর তাঁর বক্তব্যে আইনের এই পরিবর্তনের ফলে বিচারিক জটিলতা হ্রাসের দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটে তুলেছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।