শেষ ৭ মিনিটে ৩ গোল, রিয়ালের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোমার মাঠ স্তাদিও অলিম্পিকোয় নাটকীয় এই জয়ে হোসে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তনের রাত স্মরণীয় করে রাখলেন তাঁর শিষ্যরা। ম্যাচের শেষ দিকে দ্রুত তিন গোল করে ঘুরে দাঁড়ায় লস ব্ল্যাংকোসরা।

২০২১-২২ মৌসুমে রোমাকে কোচ হিসেবে কনফারেন্স লিগ জিতিয়েছিলেন মরিনিয়ো। পরের মৌসুমে তাঁর অধীনেই ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠেছিল ইতালিয়ান ক্লাবটি। বুধবার প্রতিপক্ষ হিসেবে মরিনিয়ো ফিরলেও গ্যালারিতে তাঁকে স্মরণ করে নানা ব্যানার দেখা যায়।

ম্যাচের ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্টেন ডে রুন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তাঁর বুলেট গতির শট জালে জড়ালে লিড পায় স্বাগতিকরা।

তবে পাঁচ মিনিট পরই সমতা ফেরায় রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে করা এই গোলে প্রতিপক্ষের জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে বলটি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে ঢোকে। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতায় এটি এমবাপ্পের ৭২তম গোল। এর মধ্য দিয়ে রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে ছাড়িয়ে গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে রোমা। দুটি গোলই করেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। ফ্লিক করতে গিয়ে বল হারান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি মালেন।

এরপর ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমার ব্যবধান ৩-১ করেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড। শুরুতে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলটি বহাল থাকে। এতে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষ দিকে তিনটি সেট পিস থেকে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

বদলি হিসেবে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল করেন কার্লোস ইস্পি। ৮৩ মিনিটে এন্দ্রিকের হেড রোমার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে আলতো টোকায় জালে পাঠান ইস্পি। এতে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় রিয়াল।

দুই মিনিট পর, ৮৫ মিনিটে আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান এন্দ্রিক। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রোমার জন্য তখন জয় ধরে রাখাই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।

নাটকীয়তার শেষ দৃশ্যের অপেক্ষা ছিল আরও কয়েক মিনিট। ৯০ মিনিটে গুলারের আরেকটি সেট পিস থেকে কাছের পোস্টে ভলিতে জয়সূচক গোল করেন অ্যান্তোনিও রুডিগার। তাঁর গোলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের।

শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে রোমার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরে লস ব্ল্যাংকোসরা। পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল ম্যাচটি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।