ঘরের মাঠে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে কভেন্ট্রির ইতিহাস: নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে কী বার্তা দিলেন ল্যাম্পার্ড?

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ও রূপকথার রাত উপহার দিল কভেন্ট্রি সিটি। অসম শক্তির এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে দলটি। ঘরের মাঠ কভেন্ট্রি অ্যারেনায় তারকাখচিত নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের শিষ্যরা। এই অবিস্মরণীয় বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ—অর্থাৎ টানা ২৫ বছর পর নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয়ের অবিস্মরণীয় স্বাদ পেল কভেন্ট্রি।

ম্যাচটিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে দুই দলের সমীকরণ ছিল একেবারেই ভিন্ন মেরুর। নিউক্যাসল যেখানে টেবিলের মধ্যভাগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে রাখা এক কুলীন ক্লাব, সেখানে অবনমনের গভীর শঙ্কায় ধুঁকছিল কভেন্ট্রি সিটি। কিন্তু মাঠের ফুটবলে সব পরিসংখ্যান ও শক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্মরণীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ঐতিহাসিক এক তথ্যে জানা যায়, প্রিমিয়ার লিগে কভেন্ট্রি যখন নিজেদের মাঠে সর্বশেষ কোনো জয় উদযাপন করেছিল, তখন আন্তর্জাতিক টপ চার্ট মাতাচ্ছিল সাবেক ‘স্পাইস গার্ল’ তারকা এমা বান্টনের বিখ্যাত গান ‘হোয়াট টুক ইউ সো লং?’ (তোমার এত সময় লাগল কেন?)। আড়াই দশক পর কভেন্ট্রির এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের রাতে ‘বেবি স্পাইস’–এর সেই গানের শিরোনামটিই যেন ক্লাব সমর্থকদের মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে উপযুক্ত ভাষা হয়ে উঠেছে।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফুলঝুরি ছোটায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে পেনাল্টি আদায় করে নেয় তারা। সফল স্পট-কিক থেকে মিডফিল্ডার জ্যাক রুদোনি লক্ষ্যভেদ করতেই কানফাটা গর্জনে ফেটে পড়ে গোটা কভেন্ট্রি অ্যারেনা। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে জন হার্টসনের ঐতিহাসিক গোলের পর এই প্রথম নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে কোনো গোলের দেখা পেল কভেন্ট্রি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৪৮ মিনিটে সিদিকি চেরিফের চোখধাঁধানো গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করে ফেলে দলটি। ম্যাচের ৭০ মিনিটে নিউক্যাসলের হয়ে ডিফেন্ডার বোটমান একটি গোল শোধ দিয়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এরপরই শুরু হয় কভেন্ট্রির আসল তাণ্ডব। ম্যাচের ৮১ ও ৮৬ মিনিটে আরও দুটি দুর্দান্ত গোল করে নিউক্যাসলকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয় তারা। ২০০০ সালের মে মাসে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয়ের পর এই প্রথম শীর্ষ লিগে এক ম্যাচে চার গোল দেওয়ার গৌরব অর্জন করল কভেন্ট্রি।

এই ঐতিহাসিক বিজয়ের সুবাদে রেলিগেশন বা অবনমন অঞ্চল থেকে একলাফে প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট টেবিলের ১৪তম স্থানে উঠে এসেছে দলটি; বর্তমানে ৬ ম্যাচ খেলে তাদের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৬ পয়েন্ট। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা মিডফিল্ডার ও কভেন্ট্রি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড নিজের চরম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "খুব সন্তুষ্টির। আমরা যেমন দল হতে চাই, ঠিক তেমন খেলেছি। পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স।"

তবে শিষ্যরা যেন অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন, সেজন্য ম্যাচ শেষে তাদের সংযত থাকার কড়া তাগিদ দিয়েছেন এই ইংলিশ কোচ। ল্যাম্পার্ড বলেন, "খেলোয়াড়দের জন্য অবশ্যই দারুণ এক অনুভূতি। পা মাটিতে রাখতে হবে। কারণ, আমাদের পরের ম্যাচটি (টটেনহাম) কঠিন এবং তার পরেরটিও সহজ হবে না।" এই ম্যাচে ল্যাম্পার্ডের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল তাঁর চারজন ভিন্ন ফুটবলারের গোল পাওয়া। উল্লেখ্য, ল্যাম্পার্ডের কৌশলী নির্দেশনায় গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবেই মৌসুম শেষ করেছিল এই কভেন্ট্রি।

অন্যদিকে কভেন্ট্রির কাছে এমন লজ্জাজনক পরাজয়ের পর বোর্নমাউথ ও চেলসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোল হজমকারী দল হিসেবে নাম লিখিয়েছে নিউক্যাসল। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে টেবিলের ১১তম স্থানে নেমে যাওয়া নিউক্যাসলের কোচ ম্যাথিয়াস জাইসলে দলের চরম ব্যর্থতা স্বীকার করে হতাশ কণ্ঠে বলেন, "মেনে নেওয়া কঠিন। লিগে এটা ভুলের শাস্তি। সমর্থকদের আরও ভালো ফলাফল প্রাপ্য ছিল, তাই তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।"

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।