রাওয়ালপিন্ডির স্মৃতি কি অতীত? মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন ইতিহাসের সন্ধানে সিমন্স

বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাতায় ২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টটি একটি স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তৎকালীন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অধীনে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর কেটে গেছে বেশ কিছু সময়। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন, ড্রেসিংরুমের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ফিল সিমন্স। আগামীকাল শুক্রবার (৯ মে) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে সিমন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চান না; বরং মিরপুরে নতুন এক ইতিহাস লিখতে মুখিয়ে আছেন।

আজ মিরপুর স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিল সিমন্স তাঁর কৌশলী মনোভাব ব্যক্ত করেন। রাওয়ালপিন্ডির জয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওটা এখন কেবলই ইতিহাস। সেই সময় পার হয়ে গেছে। আমরা সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না। আমাদের সামনে এখন নতুন লক্ষ্য, আর আমরা শুক্রবারের ম্যাচের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি। আগে কী অর্জিত হয়েছে, তা বর্তমানের লড়াইয়ে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।’ তবে কোচ হিসেবে তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানের মাটিতে সেই জয়টি খেলোয়াড়দের অবচেতনে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় মিরপুর আর রাওয়ালপিন্ডি যে এক নয়, সেই সত্যটিও খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সিমন্সের মতে, টেস্ট ক্রিকেটের এই নতুন চ্যালেঞ্জে বড় বাধা হতে পারে দর্শকদের পাহাড়সম প্রত্যাশা। তবে এই চাপকে ড্রেসিংরুমে ঢুকতে দিতে নারাজ তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে সিমন্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রত্যাশা ব্যাপারটার ৯৫ শতাংশই ড্রেসিংরুমের বাইরে বিরাজ করে। আপনাদের (সংবাদমাধ্যম) বা সাধারণ দর্শকদের প্রত্যাশা আমাদের ভেতরের পরিবেশের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা কেবল নিজেদের প্রস্তুত করছি। অতীতের কোনো সাফল্য থেকে তৈরি হওয়া অবাস্তব প্রত্যাশা আমাদের সাহায্য করবে না, তাই আমরা সেটা বাইরেই রাখছি।’

বাংলাদেশ দল দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে টানা ‘সাদা বলের’ বা সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলে আসছে। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে জয় এবং এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের রেশ এখনো কাটেনি। এমন অবস্থায় হঠাৎ ‘লাল বলের’ ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং কি না—এমন প্রশ্নে অভিজ্ঞ সিমন্স বেশ সাবলীল উত্তর দেন। তিনি মনে করেন, এটি পুরোপুরি একটি মানসিক বিষয়। দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে লাল বলের সাথেই অভ্যস্ত ছিলেন, তাই এই ফরম্যাট পরিবর্তন বা ‘ট্রানজিশন’ খুব একটা কঠিন হবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।

ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে বোলাররা কেমন ছক সাজান, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ফিল সিমন্সের এই নতুন দর্শন এবং জয়ের ক্ষুধা টাইগারদের নতুন কোনো উচ্চতায় নিয়ে যায় কি না, তার উত্তর মিলবে শুক্রবার থেকেই।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।