বিশ্বজয়ের আনন্দ যখন পরিবারের আলিঙ্গনে; ইয়ামালের ছোট ভাই কিয়েনই কি বিশ্বকাপের ‘কিউটেস্ট’ আকর্ষণ?

ফুটবল বিশ্বের নতুন সিংহাসনে আরোহণ করেছে স্পেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের উল্লাসে যখন পুরো ইউরোপ কাঁপছে, তখন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় ফুটে উঠল এক পরম মমতাময় দৃশ্য। স্প্যানিশ ফুটবলের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের পায়ের জাদুতে বিশ্বজয় নিশ্চিত হওয়ার পর, মাঠের সমস্ত আলো কেড়ে নিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে ইয়ামালের মাত্র তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কিয়েনের অনাবিল হাসি আর খুনসুটি মুহূর্তেই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার পর ইয়ামালকে দেখা যায় তাঁর মা শেইলা এবানা, প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া এবং প্রাণপ্রিয় ছোট ভাই কিয়েনকে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, মেডেল গলায় ঝুলিয়ে বিশ্বজয়ের ট্রফি হাতে নিয়ে কিয়েনের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতেছেন এই তরুণ উইঙ্গার। মাঠের সেই ‘ভাইরাল’ হওয়া দৃশ্যগুলোতে ফুটে উঠেছে পেশাদার ফুটবলের কঠোর পরিশ্রমের আড়ালে থাকা এক কোমল পারিবারিক সত্তা। স্পেনের শিরোপা উদযাপনের পাশাপাশি ইয়ামাল ও তাঁর পরিবারের এই অকৃত্রিম মুহূর্তগুলো এখন বৈশ্বিক গণমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয়।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই গ্যালারিতে কিয়েনের উপস্থিতি ছিল এক বাড়তি চমক। ভাইয়ের প্রতিটি মুভমেন্টে গ্যালারি থেকে কখনও হাততালি, কখনও বা বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকা কিয়েন যেন হয়ে উঠেছিল স্প্যানিশ শিবিরের ‘লাকি চার্ম’। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন বা বিরতির সময় বড় পর্দায় বা ‘জায়ান্ট স্ক্রিন’-এ ছোট ভাইকে খুঁজে বের করতেন ইয়ামাল। কিয়েনকে নজরে পড়লেই দূর থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করার সেই ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের রীতিমতো আবেগাপ্লুত করেছে।

এই পারিবারিক আখ্যানকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছেন ইয়ামালের মা শেইলা এবানা। তিনি নিয়মিত তাঁর ‘স্মার্টফোন’ থেকে কিয়েনের বিভিন্ন অভিব্যক্তির ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতেন। সেই কন্টেন্টগুলো মুহূর্তেই কয়েক মিলিয়ন ভিউ আর শেয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করে কিয়েনকে টুর্নামেন্টের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অন্যদিকে, পুরো আসর জুড়ে ইয়ামালের ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা গেছে তাঁর প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়াকে। চলতি বছরের মে মাসে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসার পর এটিই ছিল তাঁদের প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি। পেশায় ফ্যাশন ও বিউটি ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে পরিচিত ইনেসের সাধারণ কিন্তু মার্জিত উপস্থিতি ভক্তদের মাঝে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মাঠের লড়াইয়ে ইয়ামাল যেভাবে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই মাঠের বাইরের গল্পে তাঁর পরিবার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক রঙিন অধ্যায় যোগ করেছে। আধুনিক ফুটবলের প্রচণ্ড চাপের মাঝেও যে পারিবারিক মমতা কত বড় শক্তির উৎস হতে পারে, ইয়ামাল ও কিয়েনের এই রসায়ন সেটিই প্রমাণ করল। শিরোপা জয়ের এই রাতটি তাই কেবল স্পেনের নয়, বরং ফুটবল ও পরিবারের এক অনন্য মহামিলনের স্মারক হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।