মেহেরপুরে ‘ছুটির ঘণ্টা’র আতঙ্ক: তালাবদ্ধ স্কুলের বাথরুমে আটকা শিশু সাদিয়া

১৯৮০ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র সেই শিউরে ওঠা করুণ দৃশ্য যেন আবারও বাস্তবে ফিরে এসেছিল মেহেরপুরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এবার ঘটনার সমাপ্তি সিনেমাটির মতো বিয়োগান্তক হয়নি। স্কুল ছুটির পর বাথরুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ আটকা পড়ে থাকে আট বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া। শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সাহসী তৎপরতায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে মেহেরপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই বিদ্যালয়টিতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকরা কক্ষ ও মূল ফটকে তালা দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কিন্তু তারা নিশ্চিত হননি যে ভেতরে কোনো শিক্ষার্থী রয়ে গেছে কি না। ওই সময় সাদিয়া স্কুলের বাথরুমে থাকায় সে ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। জনশূন্য স্কুল ভবনের অন্ধকারে আটকা পড়ে ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে অবুঝ শিশুটি।

সাদিয়ার কান্নার শব্দ পথচারীদের কানে পৌঁছালে তারা দ্রুত স্কুলের সামনে জড়ো হন। এরই মধ্যে সাদিয়ার বাবা মনিরুল ইসলাম তার মেয়ের খোঁজে স্কুলে এসে হাজির হন। এলাকাবাসীর সহায়তায় তারা বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলতে সক্ষম হলেও ভবনের কলাপসিবল গেট ভাঙা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রায় এক ঘণ্টার চরম উৎকণ্ঠার পর স্থানীয়দের ডাকে স্কুলের শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্য চাবিসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতে গেট খুলে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু রহস্যজনকভাবে বারবার কল কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কোনো শিক্ষকই ফোন রিসিভ না করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম।

তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এবং সাদিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ইউএনও খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “সাদিয়া সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটি অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়। তবে এই ঘটনায় শিক্ষকদের দায়িত্বে যে বড় ধরনের গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। বৃহস্পতিবার শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া