মেসি-রোনালদো পরবর্তী যুগে ফুটবলের নতুন ‘রাজা’ কে? ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বড় ওলটপালট

বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ‘ব্যালন ডি’অর’ ২০২৬-এর দৌড় এখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল রাউন্ড শেষে তারকা ফুটবলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের ওলটপালট লক্ষ্য করা গেছে। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে পিএসজি এবং আর্সেনাল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর ফুটবল বোদ্ধাদের চোখে এখন নতুন কয়েক জন ফুটবলার এই পুরস্কারের প্রধান দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বর্তমানে পারফরম্যান্স আর পরিসংখ্যানের বিচারে যে পাঁচ জন ফুটবলার এগিয়ে আছেন, তাঁদের নিয়ে ‘দেশ মিডিয়া’র বিশেষ বিশ্লেষণ।

ব্যালন ডি’অরের এই লড়াইয়ে বর্তমানে সবাইকে চমকে দিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন উসমান দেম্বেলে। পিএসজির এই ফরাসি ফরোয়ার্ড যদিও গোল বা অ্যাসিস্টের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে খুব একটা এগিয়ে নেই, তবে তাঁর ‘ইমপ্যাক্ট’ বা প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের শেষ তিন ম্যাচে তাঁর পা থেকে আসা ৫টি অমূল্য গোল তাঁকে এই দৌড়ে ফেভারিট বানিয়ে দিয়েছে। চাপের মুখে তাঁর এমন ‘ক্লুচ’ পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে অনড় অবস্থান ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের গোলমেশিন হ্যারি কেইন। যদিও তাঁর দল বায়ার্ন মিউনিখ চলতি মৌসুমে ট্রফিহীন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে, তবুও হ্যারি কেইনের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছিল ঈর্ষণীয়। পুরো মৌসুম জুড়ে ৬০টিরও বেশি গোল এবং অ্যাসিস্টে সরাসরি অবদান রাখা কেইনকে এখনো জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রফির অভাব তাঁর জন্য বড় বাধা হতে পারে।

এই দৌড়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসে বড় চমক দেখিয়েছেন ডেকলান রাইস। আর্সেনালের মাঝমাঠের এই ‘ইঞ্জিন’ গানার্সদের ফাইনালে তোলার নেপথ্যে কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। রক্ষণ আর আক্রমণের মাঝে নিখুঁত সেতুবন্ধন গড়া এই মিডফিল্ডারকে অনেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে গণ্য করছেন। আর্সেনাল যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা প্রিমিয়ার লিগ জিততে পারে, তবে রাইসের পয়েন্ট আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। ইনজুরির কারণে মৌসুমের শেষ লগ্নে ছিটকে গেলেও ইয়ামালের অবদান ছিল ঐতিহাসিক। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি ৪০টিরও বেশি গোলে অবদান রেখে নিজের জাত চিনিয়েছেন। অন্যদিকে, তালিকার পঞ্চম স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রত্যাশিত ট্রফি না পেলেও তাঁর ৫০টি গোল অবদান এবং আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুভার তাঁকে এখনো প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালটি যেহেতু একটি ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইয়ার’ বা বিশ্বকাপের বছর, তাই ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সই হবে শেষ ‘ডেডলাইন’। ক্লাব ফুটবলের অর্জন বড় ভূমিকা রাখলেও, উত্তর আমেরিকার মাটিতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন, তাঁর হাতেই উঠবে সোনালি বলটি। আপাতত ফুটবল বিশ্ব এক নতুন তারকার রাজ্যাভিষেক দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।