"মাকে নিয়ে আসছি" বলে আর ফিরলেন না বাবা, এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চে কাঁদছে দুগ্ধপোষ্য শিশু

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি চলন্ত লঞ্চে মাত্র ৮ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুকে রেখে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকাগামী ‘এমভি বন্ধন-৫’ লঞ্চে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিষ্পাপ শিশুটিকে এভাবে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় লঞ্চের যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে বাউফল উপজেলার কালাইয়া ঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শিশুটিকে কোলে নিয়ে লঞ্চের ডেকে ওঠেন। লঞ্চ ছাড়ার আগমুহূর্তে তিনি পাশের সহযাত্রীদের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন এবং শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে অত্যন্ত সুকৌশলে তিনি সহযাত্রীদের জানান যে, শিশুটির মাকে নিয়ে আসার জন্য তাকে দ্রুত নিচে নামতে হবে। এ সময় পাশের যাত্রীদের কাছে শিশুটিকে কিছুক্ষণ দেখে রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান।

তবে লঞ্চ ঘাট ছেড়ে মাঝনদীতে চলে এলেও ওই ব্যক্তি আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর শিশুটি ক্ষুধার্ত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে আশপাশে কোনো স্বজনকে খুঁজে না পেয়ে যাত্রীদের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি লঞ্চের কর্মকর্তাদের জানানো হলে তারা পুরো লঞ্চে তল্লাশি চালিয়েও ওই ব্যক্তির কোনো হদিস পাননি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুটি বর্তমানে লঞ্চের কয়েকজন নারী যাত্রীর বিশেষ তত্ত্বাবধানে এবং নিরাপদে আছে। কী কারণে ওই ব্যক্তি এমন কাজ করলেন তা এখনো অস্পষ্ট। আমরা শিশুটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।"

লঞ্চের ভেতরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই এই অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে এবং লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বয় করে তার পরিবারের সন্ধান করছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। তবে ঘটনাটি শোনার পর থেকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে এবং শিশুটির পরিচয় বের করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া