বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার ভোররাতে যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই বাদশা মিয়ার বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৭টি দোকানকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে। খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট’ (Short Circuit)-এর মাধ্যমে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারলে বাজারের অন্তত ৩০টি দোকান ভস্মীভূত হওয়ার চরম ঝুঁকি ছিল। সময়মতো হস্তক্ষেপ করায় একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা দীর্ঘ। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ী মো. আউয়াল মৃধা, ওষুধ ব্যবসায়ী গোলক মণ্ডল ও শেখর চন্দ্র হালদার, চা দোকানি জাকারিয়া মুন্সী, সিটকাপড় ও টেইলার্স ব্যবসায়ী চিত্ত দত্ত এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সুমন শেখের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, মালামাল ও অবকাঠামো মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৩০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুপুরের দিকে দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেন এবং পুনর্বাসনের জন্য পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন। সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আগামীর দিনগুলোতে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের কাছ থেকে আরও বড় ধরনের সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণের প্রত্যাশা করছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।