আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন ফাঁকা হওয়ার পথে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই জাতীয় উৎসবের অংশীদার হতে এবং নিজের ভোটটি নিজ এলাকায় প্রদান করার তাগিদে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সাথে পরদিন শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা তিন দিনের এক বিশাল ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পোশাক শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য সরকার ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বিশেষ ছুটির ঘোষণা দেওয়ায় ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ চার দিনের এক লম্বা বিরতি পেয়েছেন। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর, নবীনগর, আমিনবাজার এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ ও বাইপাইল পয়েন্টে ঘরমুখো মানুষের স্রোত আছড়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী ও সাভার বাসস্ট্যান্ডের প্রতিটি কাউন্টারে মানুষের দীর্ঘ ‘কিউ’ বা লাইন। বাসের ‘অ্যাডভান্স টিকিট’ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। এই সুযোগে কিছু অসাধু পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে পিকআপ ভ্যান কিংবা ট্রাকে চড়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। বিশেষ করে গাজীপুরে কর্মরত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখ লাখ শ্রমিক যারা বছরের পর বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি, তারা এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে অত্যন্ত উন্মুখ।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। ট্রেনের টিকিটের জন্য যাত্রীদের হাহাকার আর প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে মানুষের গিজগিজে ভিড় মনে করিয়ে দিচ্ছে ঈদের আগাম প্রস্তুতির কথা। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার থেকে এই ভিড় আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্ভয়ে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে মানুষ সব প্রতিকূলতা জয় করেই নাড়ির টানে গ্রামের দিকে ছুটছে। রাজধানী এখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে, যার প্রাণ এখন মিশেছে মহাসড়কের ধুলো আর বাড়ি ফেরার আনন্দময় ব্যস্ততায়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।