পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ী মহলে দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে এক দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতা ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গত ১৭ মাসে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান সোনামনিকে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার পালিদহ গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকে আটক করা হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে দেশ মিডিয়াকে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালিদহ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সোনামনির ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সোনামনির পাশাপাশি এই চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য কাজল ও সুইটসহ আরও তিন সহযোগীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর গোকুলনগর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুজ্জামান (পিতা-জমশেদ আলী সরকার) গত ১৫ মে সোনামনি ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। এজাহারে তিনি অত্যন্ত ভয়ার্ত কণ্ঠে উল্লেখ করেছেন যে, গত ১৭ মাস ধরে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে রেখেছিল। এই দীর্ঘ সময়ে ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যমতে, তাঁর মালিকানাধীন ‘আরাবি পিউরিফাইড ড্রিনকিং ওয়াটার’ ও ‘মেসার্স আহনাফ এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠান দুটিকে লক্ষ্য করে সোনামনি বাহিনী নিয়মিত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করত। কেবল এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং ওই এলাকার ‘পদ্মা ড্রিনকিং ওয়াটার’ এবং ‘যমুনা ড্রিনকিং ওয়াটার’-এর মালিকদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের চাঁদা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোনামনির বিরুদ্ধে। অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এই অর্থ আদায় করা হতো বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
ব্যবসায়ী মাহমুদুজ্জামান বলেন, “এই চাঁদাবাজ চক্রের অত্যাচারে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। ক্রমাগত ভয়ভীতির কারণে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে আমরা থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-১২ পাবনার কোম্পানি কমান্ডার বরাবরও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।” স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনামনি ও তাঁর বাহিনীর গ্রেপ্তারের খবরে ঈশ্বরদীর ব্যবসায়িক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।