তারেক রহমানের অভিষেক অনুষ্ঠানে ভারতের বড় চমক: বিশেষ বিমানে আসছেন ওম বিড়লা ও বিক্রম মিশ্রি

তারেক রহমানের অভিষেক অনুষ্ঠানে ভারতের বড় চমক: বিশেষ বিমানে আসছেন ওম বিড়লা ও বিক্রম মিশ্রি

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।


সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে একই সময়ে ভারতে ‘এআই সামিট’ (AI Summit) অনুষ্ঠিত হতে চলায় এবং সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বের প্রায় ২০ জন রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতি নির্ধারিত থাকায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না। এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার এবং পররাষ্ট্র সচিবকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। এটি দুই দেশকে আবদ্ধকারী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অবিচল অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে বাংলাদেশের এই ক্ষমতা হস্তান্তরকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। বিশেষ করে জনগণের বিপুল ‘ম্যান্ডেট’ বা গণদেশ লাভ করা এই সরকারের সাথে আগামীতে কাজ করতে ভারত উন্মুখ।


কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ লোকসভার স্পিকারের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নয়, বরং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সাথে দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন সেতুবন্ধন তৈরির ইঙ্গিত। মঙ্গলবার সকালে প্রতিনিধিদলটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবে এবং শপথ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।