বান্দরবানে ভ্রমণের আনন্দ বিষাদে রূপান্তর, নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ১৯ বছরের তরুণ

বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীব্র স্রোতে আব্দুল ওয়াদুদ সাইয়ান (১৯) নামের এক তরুণ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম ও নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র ‘সাদা পাহাড়’ সংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ সাইয়ান চট্টগ্রাম মহানগরীর আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্র থেকে জানা যায়, একদল পর্যটকের সাথে বান্দরবানের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণে এসেছিলেন সাইয়ান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তপ্ত রোদে শীতল হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় তিনি মাতামুহুরী নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতে নামেন। তবে পাহাড়ি নদীর গভীরে থাকা চোরাবালু কিংবা তীব্র স্রোতের বিষয়ে ধারণা না থাকায় তিনি মুহূর্তের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান। তার সহযাত্রীরা তাকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন এবং একপর্যায়ে সাইয়ান চোখের আড়ালে চলে যান। দীর্ঘ সময় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পাওয়ার পরপরই লামা ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নদীতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তবে নদীর গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা উদ্ধারকাজকে বেশ চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ পর্যটকের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ তরুণের স্বজনদের মধ্যে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, “সাদা পাহাড় এলাকায় নদীতে গোসল করতে নেমে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে কাজ করছেন। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং সেখানে কোনো ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ না থাকায় উদ্ধারকারী দলের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। উদ্ধারকারী দলটি অভিযান শেষে ফিরে এলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বিস্তারিতভাবে জানা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য যে, বর্ষার আমেজ শুরু হতে থাকায় পাহাড়ি নদীগুলোর জলপ্রবাহ বর্তমানে কিছুটা বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া