ফুটবল মাঠের ‘মেশিন’ যখন বিনোদনপ্রেমী; হলান্ডের প্রিয় সিনেমা ও সিরিজের দীর্ঘ তালিকা

ফুটবল বিশ্বের এক অপ্রতিরোধ্য নাম আর্লিং হলান্ড। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে গোল উৎসবে মেতে ওঠাই যেন তাঁর নেশা। ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার মাঠের ভেতরে যতোটা খুনে মেজাজি ও যান্ত্রিক, মাঠের বাইরে তিনি ততোটাই নিভৃতচারী। তবে ফুটবল ও বিনোদন প্রেমীদের মনে দীর্ঘদিনের এক কৌতূহল ছিল—মাঠের এই ‘বিস্ময় বালক’ অবসরে ঠিক কী করেন? কোন সিনেমা বা সিরিজের ‘প্যাকেজ’ তাঁকে অনুপ্রাণিত করে? সম্প্রতি হলান্ডের ব্যক্তিগত বিনোদন রুচি এবং রুপালি পর্দায় তাঁর রাজকীয় অভিষেকের খবরটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

হলান্ড তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য না করলেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রিয় চলচ্চিত্রের কথা জানিয়েছেন। তাঁর পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে রিডলি স্কটের ঐতিহাসিক মহাকাব্য ‘গ্ল্যাডিয়েটর’। রোমান সেনাপতি ম্যাক্সিমাসের সেই হার না মানা লড়াই এবং যোদ্ধার মানসিকতা হলান্ডের নিজের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া তিনি ক্রিস্টোফার নোলানের মনস্তাত্ত্বিক ‘থ্রিলার’ বিশেষ করে ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এরও অন্ধ ভক্ত। জটিল গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রতি তাঁর এক বিশেষ টান রয়েছে। উত্তর ইউরোপীয় বা ‘ভাইকিং’ ঐতিহ্যের সন্তান হওয়ায় প্রাচীন যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রতিও হলান্ডের আগ্রহ আকাশচুম্বী।

সিরিজের ক্ষেত্রে হলান্ড আধুনিক প্রজন্মের মতোই আসক্ত ‘প্রিজন ব্রেক’-এর ওপর। মাইকেল স্কোফিল্ডের অসামান্য বুদ্ধিমত্তা তাঁকে মুগ্ধ করে। এর পাশাপাশি ‘গেম অব থ্রোনস’-এর ক্ষমতা ও রাজনীতির লড়াইও তাঁর অবসরের সঙ্গী। ম্যাচের আগে নিজেকে মানসিকভাবে ‘চার্জ’ করতে তিনি মার্কিন র‍্যাপ ও হিপহপ গান শোনেন। তাঁর মতে, গানের বিট ও আত্মবিশ্বাসী কথাগুলোই তাঁকে মাঠে ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়া চাপের মধ্যেও শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

তবে সবচেয়ে বড় চমকটি হলো, ফুটবল মাঠের এই ‘রিয়েল লাইফ’ ভাইকিং এবার পর্দার ‘রিল লাইফ’ ভাইকিং হতে চলেছেন। অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘ভাইকুইন্স’ (Viquins)-এর মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে তাঁর। ছবিতে তিনি নিজের নামেই অর্থাৎ ‘হলান্ড’ নামক এক বীর যোদ্ধার চরিত্রে কণ্ঠ দেবেন। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি পরিচালনা করছেন খ্যাতিমান ডাচ-নরওয়েজীয় নির্মাতা হারাল্ড জোয়ার্ট, যিনি ‘দ্য কারাতে কিড’-এর মতো ‘ব্লকবাস্টার’ সিনেমা উপহার দিয়েছেন। পরিচালক হারাল্ডের মতে, হলান্ড নিজেই একজন আধুনিক যুগের ভাইকিং প্রতীক—শক্তিশালী ও নির্ভীক; যা এই ছবির জন্য এক অনন্য বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে।

এই অ্যানিমেশন অ্যাডভেঞ্চারে হলান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা রিটা ওরা এবং ‘ইয়েলোজ্যাকেটস’ খ্যাত অভিনেত্রী এলা পারনেল। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই সাহসী কিশোরীর নরওয়ে থেকে চীন অভিমুখে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে, যেখানে কুংফু ও বন্ধুত্বের এক দারুণ সংমিশ্রণ দেখা যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বড়দিনের বিশেষ উৎসবের সময় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে হলান্ডের এই নতুন ইনিংস। ফুটবলের সবুজ গালিচা জয় করার পর এবার রুপালি পর্দার দর্শকদের হৃদয় জয় করতে তিনি কতটা সফল হন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।