একটি আংটি তৈরিতে ২৫৬ ঘণ্টা! আমির-পত্নী গৌরীর রাজকীয় গয়নার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের জীবন মানেই খুঁটিনাটি সব বিষয়ে নিখুঁত ছোঁয়া। গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করেছেন এই অভিনেতা। অত্যন্ত ঘরোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিসরে আয়োজিত এই বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ ছিল তুঙ্গে। তবে বিয়ের জৌলুস ছাপিয়ে এখন বিনোদন দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কনে গৌরীর হাতের একটি বিশেষ অলংকার—যা কেবল একটি আংটি নয়, বরং আধুনিক কারুকার্যের এক অনন্য নির্দশন।

বিয়ের দিন আমির ও গৌরী দুজনেই সেজেছিলেন অত্যন্ত রুচিশীল ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে। আমির খানের পরনে ছিল আইভরি রঙের আভিজাত্যপূর্ণ ধুতি-কুর্তা এবং বাম পাশে একটি বিশেষ ‘ব্রোচ’। অন্যদিকে গৌরী স্প্র্যাট নজর কেড়েছেন প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা ও একাধিক স্তরের হাড়ের অলংকারে। তবে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের নজর আটকে গেছে গৌরীর অনামিকায় থাকা রাজকীয় আদলের আংটিতে। বিলাসবহুল গয়না প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘কুইন’ (Quinn) এর নিপুণ কারুকার্যে তৈরি এই আংটিটি আক্ষরিক অর্থেই এক রাজকীয় উত্তরাধিকার।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) অমিত কুমার এই মাস্টারপিস আংটিটি সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আংটির কেন্দ্রে যে লাল রত্নটি শোভা পাচ্ছে, সেটি মাদাগাস্কার থেকে সংগ্রহ করা অত্যন্ত বিরল ও প্রাকৃতিক ‘ক্যাবোশন-কাট’ রুবি। অমিতের ভাষ্যমতে, এই রুবিটি এতটাই দুষ্প্রাপ্য যে একে ‘ওয়ান ইন আ মিলিয়ন’ বা লাখে একটি বলা যায়। এমনকি এই রত্নটি খুঁজে পেতে তাঁদের বিশেষজ্ঞদের সময় লেগেছে দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি।

আংটিটি নির্মাণের পরিসংখ্যান শুনলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। এটি কোনো সাধারণ কারখানায় তৈরি পণ্য নয়; বরং ১৩১ জোড়া অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগরের হাতের ছোঁয়ায় এটি পূর্ণতা পেয়েছে। পুরো আংটিটি চূড়ান্ত রূপ দিতে ব্যয় হয়েছে ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি শ্রমঘন সময়। অমিত কুমার আরও জানান, তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রচলিত বিয়ের আংটির প্রথা ভেঙে এমন একটি অলংকার তৈরি করা, যা কেবল গয়না হিসেবে নয় বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে একটি ঐতিহাসিক ‘হেরিটেজ’ বা উত্তরাধিকার হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

কারিগরি দিক থেকে আংটিটি অত্যন্ত জটিল ও আকর্ষণীয়। এতে রুবিটিকে একটি মুকুট-আকৃতির সোনার কাঠামোর ভেতরে অত্যন্ত সুচারুভাবে বসানো হয়েছে। রত্নটির বিশেষ ‘ক্যাবোশন কাট’ এর কারণে পাথরের পৃষ্ঠটি মসৃণ ও গম্বুজাকৃতির দেখায়, যা রুবির গভীর লাল বর্ণ ও উজ্জ্বলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মুকুটসদৃশ সোনার কাঠামোতে সূক্ষ্ম ‘মিলগ্রেইন’ অলংকরণ এবং নিখুঁত হীরার কারুকাজ আংটিটিকে এক রাজকীয় মাত্রা দিয়েছে। আমিরের রুচিবোধ আর কারিগরদের দীর্ঘ সময়ের সাধনায় তৈরি এই আংটিটি এখন বলিউডের অন্যতম আলোচিত ‘ওয়েডিং জুয়েলারি’ হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।