প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের মহাকর্মযজ্ঞ: প্রতিটি উপজেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার সকালে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন ‘এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যে মূল্যবান সময় ঝরে যাচ্ছে, তা রোধ করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাবলিক পরীক্ষার সময় নিয়মিত পাঠদান যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে অত্যাধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষাকেন্দ্র’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে স্কুলগুলোতে পরীক্ষার জন্য আলাদা ছুটি বা ক্লাস বন্ধ রাখার প্রয়োজন হবে না। বর্তমান ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে দুটি বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রী এক বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুখবর দেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের আইনি জটিলতা নিরসনেও মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষক সংকট মেটাতে সরকার একটি উদ্ভাবনী ‘টিচার্স পুল’ গঠন করছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘পার্ট-টাইম’ বা খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষার গুণগত মান তদারকি করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আমি মাননীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ রাখব, আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলের ‘সিসি ক্যামেরা কোড’ সংগ্রহ করুন এবং আপনাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমেই নিয়মিত তদারকি করুন যে শিক্ষকেরা যথাযথভাবে পাঠদান করছেন কি না।" মন্ত্রী আরও জানান, সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে, যা শিক্ষার আমূল সংস্কারে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই। তিনি সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ এবং সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ ছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই নতুন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা কাঠামোয় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।