প্রথা ভেঙে চিরচেনা ছকের বাইরে শিক্ষামন্ত্রী; ভাইরাল ছবির নেপথ্যে যে রহস্য!

রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের পুরোনো ভবনের বারান্দা। ধুলোমাখা জানালার কাঁচের একটি সরু ফাঁক দিয়ে নিবিষ্ট মনে হলের ভেতর উঁকি দিচ্ছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এক হাত পেছনে রাখা, চোখে চশমা আর কানে ‘এয়ারপড’—মন্ত্রীর এমন একটি ব্যতিক্রমী ছবি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘নিউজ ফিড’ ও বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রথাগত মন্ত্রিত্বের জাঁকজমকপূর্ণ প্রটোকল সরিয়ে রেখে তাঁর এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ নজর কেড়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। এদিন রাজধানীর বেশ কিছু কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। তবে প্রথাগতভাবে হলের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত না করে, তিনি বাইরে থেকেই জানালার ফাঁক দিয়ে হলের ভেতরের শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ পরখ করে নিচ্ছিলেন। মন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা সেই ছবিগুলোতে দেখা যায়, জানালার ওপাশে আবছা অন্ধকারে প্রার্থীরা যখন গভীর মনোযোগে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, মন্ত্রী তখন নিঃশব্দে জানালার ফাঁক দিয়ে হলের ভেতরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ড. এহছানুল হক মিলন একে একে রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও তেজগাঁও কলেজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সামগ্রিক পরীক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নির্দেশনা দেন যে, শিক্ষক নিয়োগের এই মহান প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ না হয়। নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে চার ধাপে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ‘ক’ গ্রুপের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ‘খ’ গ্রুপের পরীক্ষা বেলা ১১টা ৩০ থেকে ১২টা ৩০, ‘গ’ গ্রুপের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা এবং সবশেষ ‘ঘ’ গ্রুপের পরীক্ষা বিকেল ৪টা ৩০ থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকার মোট ৯টি কেন্দ্রে এই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ (Surprise Visit) এবং জানালার ফাঁক দিয়ে পর্যবেক্ষণের ধরণটিকে অনেকেই স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া