জবিতে সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস: জ্বালানি সংকটে বড় সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম সপ্তাহে একদিন সরাসরি ক্লাসরুমের পরিবর্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৭তম বিশেষ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রতি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যাবলি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। সভায় জানানো হয়, সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাম্প্রতিক নির্দেশনাবলি অনুসরণ করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সচেতন হওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব আমাদের ওপরও পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বা শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং শিক্ষকরা যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, সপ্তাহে অন্তত একদিন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের কার্যক্রম এবং বিশাল বাস বহর বন্ধ রাখা যায়, তবে তাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অর্থনৈতিক চাপ যেমন কমবে, তেমনি পরিবেশগত সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যরা জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখতে নানামুখী প্রস্তাব পেশ করেন। উল্লেখ্য, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অনলাইন ক্লাসের এই অভিজ্ঞতাকৈ ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।