দেশের লাখো শিক্ষার্থীর অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞ চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। ‘দেশ মিডিয়া’র পাঠকদের জন্য পরীক্ষার সময়সূচি ও নির্দেশনাবলি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
শিক্ষা বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। তবে রাজধানীর অসহনীয় যানজট এবং পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবার পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম অর্থাৎ পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বেই আসন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে আগামী ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৮ জুনের মধ্যে যাবতীয় নম্বরপত্র ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়ার ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের দেওয়া ১৪টি প্রধান নির্দেশনা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই আসনে বসতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রের সময় অনুযায়ীই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষা হবে, মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. অন্তত সাত দিন আগে নিজ স্কুল থেকে প্রবেশপত্র বা ‘অ্যাডমিট কার্ড’ সংগ্রহ করতে হবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষাসহ কিছু বিষয়ের নম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বোর্ডে পাঠাবে।
৬. ওএমআর (OMR) শিটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে সঠিক বৃত্ত ভরাট করতে হবে এবং উত্তরপত্র কোনোভাবেই ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।
৮. রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লিখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না।
৯. প্রবেশপত্র বিতরণে কোনো জটিলতা হলে তার দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে।
১০. কেবল শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
১২. সব ধরনের পরীক্ষার উপস্থিতির জন্য একটিই হাজিরা খাতা বা উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা পরীক্ষার্থীর নিজস্ব কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।