নবনির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার মুহূর্ত পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং উপদেষ্টাদের বিদায় নেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট করে জানান যে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপদেষ্টাদের উপস্থিত থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আগামী মঙ্গলবার যখন নতুন মন্ত্রিসভা বা ‘ক্যাবিনেট’ শপথ নেবে, তখন সেই ঐতিহাসিক আনুষ্ঠানিকতায় উপদেষ্টারা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। তিনি আরও জানান, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগপর্যন্ত উপদেষ্টারা নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ‘ডেডলাইন’গুলো অনুসরণ করবেন। এবারের শপথ অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অতিথিদের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ মুহূর্তে শুধুমাত্র সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের ‘ভেন্যু’ বা স্থান পরিবর্তন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জয়ী রাজনৈতিক দলের বিশেষ অনুরোধ ও গণআকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথাগতভাবে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এটি মূলত একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
বিদায়লগ্নে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে এই বিশিষ্ট আইনজীবী বলেন, "একটি চরম সংকটময় ও দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দেশের হাল ধরতে আমাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল। আমরা আমাদের মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নিরন্তর চেষ্টা করেছি। এখন সাধারণ মানুষই আমাদের গত কয়েকমাসের কাজের মূল্যায়ন করবে বলে আমি আশা রাখি।" এছাড়া তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের পর নতুন মন্ত্রীরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ধরনের পরামর্শ বা সহযোগিতা চান, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সানন্দে তা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।