নিমিষেই সব শেষ! কদমতলীতে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বড় শঙ্কা।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কদমতলী এলাকার ওই কারখানায় আগুনের লেলিহান শিখা স্তিমিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে উদ্ধারকাজ এখনো চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম ও মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকা হাসপাতালের সংলগ্ন ওই গ্যাসলাইটার কারখানায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। খবর পাওয়ার মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় পরবর্তীতে আরও ৪টি ইউনিট সেখানে যুক্ত হয়। মোট ৭টি ইউনিটের দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা।


ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিকেল চারটার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহগুলো এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেগুলো নারী নাকি পুরুষের, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে জানান, তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আগুনের সময় কারখানার ভেতর থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কারখানাটির ভেতরে ডাম্পিং বা আগুন পুরোপুরি নির্বাপনের কাজ করছেন যাতে কোনো পকেট ফায়ার না থাকে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।