দেশের কৃষি খাতে ডিজিটাল বিপ্লব ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার সুসংহত করতে নতুন বাংলা বছরের প্রথম দিন থেকেই ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ থেকে শুরু করে সহজ শর্তে ঋণসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা লাভ করবেন।
আজ রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এসময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত থেকে এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। কৃষিমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ডটিকে পাঁচটি বিশেষ শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে-ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এটি মূলত তিন ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ‘প্রাক পাইলটিং’, এরপর ‘পাইলটিং’ এবং সবশেষে সারা দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে প্রাক পাইলটিং পর্যায়ের জন্য ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লককে নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে কেবল ধান বা ফসল উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যচাষি, ডেইরি বা দুগ্ধ খামারি, পশুপালনকারী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই ‘কৃষি কার্ড’টি মূলত একটি অত্যাধুনিক ব্যাংকিং ‘ডেবিট কার্ড’ হিসেবে কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখাগুলোতে ইতোমধ্যে কৃষকদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে এই প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ভূমিহীন ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক ৯ হাজার ৪৫৮ জন এবং ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন ৮ হাজার ৯৬৭ জন। এছাড়া মাঝারি ও বড় কৃষকের সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৩০৩ এবং ৯১ জন।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা যে ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা হলো-ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা লাভ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি, সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ‘এগ্রিকালচারাল গ্যাজেট’ বা যন্ত্রপাতি ক্রয়, সরকারি ভর্তুকি ও বিশেষ প্রণোদনা সরাসরি গ্রহণ, স্মার্টফোনে আবহাওয়ার আগাম বার্তা ও বাজারের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া, আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, কৃষি বিমা এবং ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।
বিশেষ একটি দিক হলো, ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষককে কার্ডের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। কৃষকেরা অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে ‘পিওএস’ (Point of Sale) মেশিন ব্যবহার করে এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি মূল্যে সার, বীজ ও মৎস্য খাদ্য ক্রয় করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশের সকল পর্যায়ের কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজ বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা এবং তাঁদের জাতীয় অর্থনীতির মূল স্রোতে আরও জোরালোভাবে যুক্ত করা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।