দীর্ঘ সময় পর দেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের বিপুল ‘ম্যান্ডেট’ নিয়ে গঠিত এই সরকার এখন থেকে বিশ্বমঞ্চে ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখে’ পথ চলবে এবং প্রতিটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় কর্মদিবসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিচালিত হবে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, যেখানে অন্য কোনো রাষ্ট্রের প্রভাবের চেয়ে দেশের মানুষের কল্যাণই হবে প্রধান মাপকাঠি।
সারাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ‘ভিসা জটিলতা’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “সরকার এই সমস্যা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিসা সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো কিভাবে একটি বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের ফলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, যা আমাদের অবস্থানকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছে।
নিজের কূটনৈতিক দর্শনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশ এখন থেকে মেরুদণ্ড সোজা রেখে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে। জনগণের ম্যান্ডেট আমাদের সঙ্গে থাকায় সেই মেরুদণ্ড এখন আরও শক্ত হয়েছে। আমরা সম্মানজনক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেব।”
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জাতির কাছে যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমাদের ‘ডিপ্লোমেটিক’ কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এখানকার কর্মকর্তারা অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং প্রফেশনাল। তাঁদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই আমরা মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করতে চাই।”
এ সময় তিনি নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয় আরও কার্যকরভাবে জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শামা ওবায়েদ আরও জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি একটি ‘চলমান প্রক্রিয়ার অংশ’ এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। প্রতিমন্ত্রী শেষে বলেন, “বাংলাদেশকে এবার বিশ্বের ভিন্ন নজরে দেখার সময় এসেছে। দল, মত ও ধর্ম নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই একতাবদ্ধ।”
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।