দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আজ বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশের আইনি অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও তিনি সক্রিয়। পেশাগত জীবনে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য এবং এর এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আইন পেশার মানোন্নয়নে কাজ করছেন।
আইন পেশায় রুহুল কুদ্দুস কাজলের পথচলা শুরু হয় ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে। মেধা ও শ্রমের জোরে তিনি অত্যন্ত দ্রুত সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর ২০০৮ সালে তিনি আপিল বিভাগের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (সিনিয়র অ্যাডভোকেট) হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন।
পেশাগত জীবনের বাইরেও তার বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ছাত্রজীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন, যা তার কর্মজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। ২০০৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পুনরায় এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৬ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স (বিভিএস) সম্পন্ন করেন। একই বছর বিশ্বখ্যাত লিংকনস ইন থেকে তিনি 'ব্যারিস্টার অ্যাট ল' সনদ লাভ করেন।
রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসাদুজ্জামান বর্তমানে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েই এখন রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রের প্রধান আইনি পরামর্শদাতার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।