দুর্নীতি দমন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বে নাটকীয় শূন্যতা: কেন পদত্যাগ করলেন মোহাম্মদ আবদুল মোমেন?

দেশের দুর্নীতিবিরোধী প্রধান সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ নেতৃত্বে এক বড় ধরনের রদবদল ও নাটকীয় পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং তাঁর সাথে থাকা দুই জন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে এসে তাঁরা তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।


পূর্বনির্ধারিত কোনো ঘোষণা ছাড়াই আজ আকস্মিকভাবেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কমিশনাররা সচিবালয়ে উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১ নম্বর ভবনের প্রবেশপথে থামে। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাঁরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; ভবনে প্রবেশের মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁরা প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বেরিয়ে যান।


দুদকের এই শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার একসঙ্গে পদত্যাগের ঘটনাটি প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সংস্থাটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হলো। সরকারের ‘ক্যাবিনেট’ বা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে তাঁরা এই গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান বা কমিশনারদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের এই প্রস্থান এবং একই সাথে দুই কমিশনারের পদত্যাগ দুদকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও চলমান তদন্তগুলোর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা চলছে। দেশের দুর্নীতি দমনের সবচেয়ে শক্তিশালী এই সাংবিধানিক কাঠামোর পরবর্তী নেতৃত্ব কে বা কারা গ্রহণ করবেন, তা জানতে এখন সবাই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।