দুই সন্তানের সামনেই মায়ের ওপর নারকীয় হামলা; জীবননগরে ববিতা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা?

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক পৈশাচিক ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন ববিতা (২৭), ঠিক তখনই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল দুর্বৃত্ত। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এই নারী জীবনের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ববিতা চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া দক্ষিণ পাড়ার সানোয়ার হোসেনের মেয়ে। জানা গেছে, দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে তিনি তাঁর বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো এক সময়ে ঘাতকরা বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমন্ত ববিতাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। তাঁর আর্তচিৎকারে স্বজনরা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা ববিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (আরএমসিএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আরও বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলা। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ববিতা অত্যন্ত নিরীহ স্বভাবের ছিলেন। এমন নিরাপদ আশ্রয়স্থলে ঢুকে কেন তাঁকে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে জনমনে নানা রহস্য ও প্রশ্ন দানা বাঁধছে। অপরাধীরা ধরা না পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া