দুই মাছের দাম লাখ টাকা ছাড়াল! পদ্মায় ধরা পড়ল বিশালাকার কাতলা ও রুই

 প্রমত্তা পদ্মা নদীর বুক থেকে আবারও উঠে এল রূপালি জগতের দুই বিশালাকার বিস্ময়। কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে দানবীয় আকৃতির একটি কাতলা ও একটি রুই মাছ। মাছ দুটির সম্মিলিত বাজারমূল্য ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ টাকার গণ্ডি, যা নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে কুশাহাটা এলাকায় মাছ দুটি ধরা পড়ে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত মধ্যরাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট অন্তারমোড় এলাকার জেলে জমির হালদার তার দলবল নিয়ে নদীতে জাল ফেলেন। ভোররাত চারটার দিকে যখন জালের শিকল টানা শুরু হয়, তখন তারা প্রচণ্ড ঝাকুনি অনুভব করেন। একপর্যায়ে জাল নৌকায় তুলতেই দেখা যায় ২৯ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের এক বিশাল কাতলা।


প্রায় একই সময়ে বাহির চর দৌলতদিয়া এলাকার অপর এক জেলে তারা মন্ডলের জালে ধরা পড়ে ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় রুই মাছ। উভয় জেলেই তাদের মাছ নিয়ে দ্রুত ছোট ভাকলা ইউনিয়নের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল সংলগ্ন রেজাউল ইসলাম মন্ডলের আড়তে পৌঁছান। সেখানে মাছ দুটিকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।


একতা মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী রেজাউল মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ দুটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত নিলামের ডাক দেওয়া হয়। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা মাছ দুটি কিনে নেন।


ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, ২৯ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের কাতলা মাছটি তিনি প্রতি কেজি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ৬৭ হাজার টাকায় কেনেন। এরপর ঢাকার ধানমন্ডি নিবাসী এক আমেরিকাপ্রবাসী ক্রেতা কেজিপ্রতি আরও ৫০ টাকা লাভে মোট ৬৮ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন। ওই প্রবাসী ক্রেতা বেশ কিছুদিন ধরেই এমন বড় একটি মাছের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছটি চান্দু মোল্লা প্রতি কেজি ৩ হাজার ১০০ টাকা দরে ৪২ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেন। পরে মাদারীপুরের এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর কাছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে মোট ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়। রুই মাছটি ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় মাদারীপুরে পাঠানো হয়েছে।


উল্লেখ্য, পদ্মার সুস্বাদু ও বড় মাছের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। বিশেষ করে প্রবাসীরা বা শৌখিন মৎস্যপ্রেমীরা সরাসরি জেলেদের সাথে বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। আজ বিক্রি হওয়া এই দুই মাছ থেকে জেলে ও ব্যবসায়ীরা সন্তোষজনক মুনাফা অর্জন করেছেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।