দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের প্রতিটি সেনানিকে পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে জনগণের আস্থা সমুন্নত রাখতে হবে। আজ রবিবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ ‘প্রধানমন্ত্রী দরবার’-এ তিনি এসব দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রবিবার সকালে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। সামরিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই দরবারে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উচ্চতর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলার মান এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী উত্তাল সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সম্প্রতি সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে আপনাদের দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ‘লজিস্টিক’ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় উন্নয়নেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আরও কার্যকর ও সৃজনশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সেনানিদের প্রতি এক শক্তিশালী আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রতিটি কর্মে, শপথে ও ত্যাগের মূলে থাকতে হবে দেশপ্রেম। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। সততা ও ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে।”
এই দরবারে ঢাকায় কর্মরত ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার বাইরের বিভিন্ন গ্যারিসন ও ঘাঁটি থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ‘ভিডিও টেলিকনফারেন্স’-এর মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা শ্রবণ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।