ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পথচলা শুরুর চূড়ান্ত দিনক্ষণ নিয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ১২ মার্চ থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে আজ ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। নবগঠিত সরকারের প্রথম এই সংসদ অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে জারি করা সকল অধ্যাদেশ বা ‘অর্ডিন্যান্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানান। তিনি বলেন, “অধিবেশন শুরু হওয়ার পর আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে প্রণীত অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদের টেবিলে পেশ করা। এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সেগুলোর পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত করা হবে।”
সংসদ ডাকার আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী অধিবেশন শুরু করার অন্তত ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ বা ‘সামারি’ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শক্রমেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।
আগামী ১২ মার্চের অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রটোকল’ ও এজেন্ডা রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে। এরপর থাকবে রাষ্ট্রপতির প্রথাগত ভাষণ। এছাড়া সংসদের নিয়মিত আইন প্রণয়ন ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই পরিচালিত হবে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, এরই মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা দেশের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তবে সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ— স্পিকার, সংসদ উপনেতা এবং চিফ হুইপ পদে কাদের মনোনীত করা হবে, তা নিয়ে এখনও দলগত পর্যায়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ মার্চের এই অধিবেশনটি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।