টাইগারদের তোপে তছনছ পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ; মিরপুরে ৪৬ রানের বড় লিড বাংলাদেশের

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বল হাতে যেন এক অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম দিন শেষে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের দেওয়া সেই প্রত্যাশার প্রতিদান বোলাররা দিলেন সুদে-আসলে। পাকিস্তানি ব্যাটিং স্তম্ভকে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিয়ে ৪৬ রানের এক মূল্যবান লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সফরকারীদের প্রথম ইনিংস ২৩২ রানেই থামিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি স্বাগতিকদের কবজায়।

দিনের শুরুটা ছিল পেসার তাসকিন আহমেদের এক রাজকীয় দাপটে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তিনি শিকার করেন আব্দুল্লাহ ফজলকে। লিটন দাসের বা দিকে ঝাঁপিয়ে পড়া দুর্দান্ত এক ক্যাচ গ্যালারিতে উত্তেজনার ঢেউ তোলে। এরপর প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান ওয়াইসকেও (১৩) থিতু হতে দেননি তাসকিন; তাঁর সুইংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে শর্ট লেগ এলাকায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই তরুণ ব্যাটার।

মাঝপথে শান মাসুদ ও বাবর আজম মিলে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। তবে অধিনায়ক শান্তর বোলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি ছিল এক কথায় ‘মাস্টারস্ট্রোক’। শরিফুল ইসলামকে সরিয়ে আক্রমণে আনা হয় নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজকে। মিরাজ তাঁর প্রথম ওভারেই শান মাসুদকে (২১) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। একটু পরেই মিরাজের বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন সৌদ শাকিল (৮), যা তালুবন্দী করতে কোনো ভুল করেননি লিটন।

লাঞ্চ বিরতির পর পাকিস্তান শিবিরে কিছুটা আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন বাবর আজম। ব্যক্তিগত ৩১তম টেস্ট ফিফটি তুলে নিয়ে তিনি যখন সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই দৃশ্যপটে আসেন তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা। ১৪৪ কিমি গতির এক ফুল লেংথ ডেলিভারিতে বাবরকে (৬৮) বিভ্রান্ত করে মিড অনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। বাবরের বিদায়ের পর শুরু হয় তাইজুল ইসলামের ‘স্পিন ম্যাজিক’। সালমান আগা (২১), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩) এবং হাসান আলীকে (১৮) দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে সফরকারীদের লোয়ার অর্ডার লন্ডভন্ড করে দেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার।

চা বিরতির পর শেষ দিকে সাজিদ খান একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর ব্যাটে ৪টি বিশাল ছক্কা বাংলাদেশকে কিছুটা চিন্তায় ফেললেও শেষ পর্যন্ত রানা তাঁকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে স্বস্তি ফেরান। পাকিস্তানের ইনিংস ২৩২ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে এই লিড চতুর্থ ইনিংসে বিশাল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটাররা কত বড় লক্ষ্য পাকিস্তানের সামনে দাঁড় করাতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।