জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পাশে ইরান; ৬ জাহাজ নিয়ে কাটল অনিশ্চয়তা

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী ৬টি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজকে এই প্রণালি অতিক্রমের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেছে ইরান সরকার। বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।


মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আয়োজিত এই সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছয়টি জাহাজের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কারিগরি তথ্যের ঘাটতি থাকায় শনাক্তকরণে কিছুটা বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জাহাজগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘স্পেসিফিকেশন’ বা বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলাম। গত সপ্তাহে প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র আমাদের হস্তগত হয়েছে। এরপরই ইরানের ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’ জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ অতিক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে।”


সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। বৈশ্বিক এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে যাতে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে ইরান সজাগ দৃষ্টি রাখছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী কার্গো চলাচলে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই, বরং তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।


এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদ প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইরানে অবস্থানরত অন্য কোনো বাংলাদেশি যদি নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে ইরান সরকার তাদের সব ধরনের লজিস্টিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দেবে।


সংবাদ সম্মেলনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা। রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরান-সংঘাত থেকে বাঁচার জন্য ‘পালাবার পথ’ খুঁজছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরায়েল এই সংঘাতের উসকানিদাতা। যুদ্ধের এক মাস পার হতেই ট্রাম্প বিভ্রান্ত হয়ে একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি মূলত ইসরায়েলের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন।”


ওমানে যখন শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে ইরানকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এই কূটনীতিক।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।