জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, প্রতিবাদ বিএনপির

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জেএফকে বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জেএফকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার অপচেষ্টা করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া কিছু পাণ্ডা। তাঁর ভাষ্য, ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা বাংলাদেশ থেকে পলায়ন করা পতিত ফ্যাসিস্টদের অনুশোচনার অভাব ও দেশবিরোধী কার্যকলাপের ধারাবাহিকতারই অংশ।

বিবৃতিতে রিজভী আরও বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি এ ধরনের অসম্মানজনক আচরণ পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার কারণেই জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁর ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

রিজভী বলেন, ড. ইউনূস শুধু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই নন, তিনি নোবেলজয়ী ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর অভিযোগ, বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে তাঁকে অসম্মান করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকেও হেয় করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনের সময় দেশ গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার অরাজক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, সেই শাসনের সহযোগী দুর্বৃত্তরা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন এবং তাঁরাই ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

রিজভী আরও বলেন, বিদেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া এ অপ্রীতিকর ঘটনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তপরায়ণ মনোভাব ও হিংসাশ্রয়ী আচরণে পরিবর্তন না আসার ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রাজনীতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ কারণেই তিনি দেশে-বিদেশে দলীয় কর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছেন বলে জনগণের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতির শেষাংশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তদের অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তিনি ধিক্কার ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।