আবরারের মৃত্যু গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে: রিজভী

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আত্মদান গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল এবং আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তিকে আরও সংগঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।

‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

রিজভী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম বারবার ব্যর্থ হওয়ায় একসময় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, সেই পরিস্থিতিতে আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রতিরোধের অনুভূতি তৈরি করে।

তিনি বলেন, আবরারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মানুষের মধ্যে ‘তরঙ্গ’ তৈরি করেছিল। লিও টলস্টয়ের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, অন্য মানুষের ব্যথা-বেদনা অনুভব করার মধ্যেই মানবিক অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা জাতির অনুভূতিকে তিনি সেই মানবিকতার সঙ্গে তুলনা করেন।

রিজভীর দাবি, আবরারের দেশপ্রেমিক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে যে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে, তাতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাঁর মতে, এই ঘটনা মানুষকে আরও বেশি সংগঠিত ও প্রতিরোধী করে তুলেছে।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিএনপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, আবরারের মৃত্যু ও আত্মদানের ঘটনাও পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রভাব ফেলেছে।

রিজভী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলেও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় এসব প্রতিষ্ঠানও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে যায়। জার্মানি ও ইতালির উদাহরণ টেনে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

ছাত্রদলের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন। তবে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবরার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে অন্যদের নীরব রাখার চেষ্টা হয়েছিল এমন দাবি করে রিজভী বলেন, সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বরং তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবরারের মৃত্যু আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তিকে আরও সংগঠিত করেছে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।