কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নেতার গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

ঘটনার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নেতৃত্ব ও পদবিন্যাস নিয়ে নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। আসন্ন কমিটিতে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এর জেরে বুধবার রাতে মোগলটুলী ফারুকী হাউজে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ গত ৩০ বছর ধরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি নতুন আমির নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে আমির নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।

এদিকে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন ও এমদাদুল হক মামুনকে দায়িত্ব পালনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের দুজনের আমির হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে আলোচনায় আসেন।

সূত্রের দাবি, এমদাদুল হক মামুনের অনুসারীরা তাঁকে মহানগর জামায়াতের আমির হিসেবে দেখতে চান। তাঁকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে মাহবুবুর রহমানের ভূমিকা থাকতে পারে এমন ধারণা থেকে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরেই বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এমদাদুল হক মামুন ও মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তাঁদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

ঘটনা সম্পর্কে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার রাত ৭টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলছিল। এ সময় কয়েকজন যুবক সভায় প্রবেশ করে হইচই শুরু করেন। পরে তাঁরা হট্টগোল করে চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।