ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন যাত্রার পথে আজ এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সাক্ষী হলো জাতীয় সংসদ ভবন। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নধর্মী অবস্থান ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত দুইটি শপথই গ্রহণ করেছেন, যা বিএনপির অবস্থানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংসদীয় রেওয়াজ এবং প্রথা অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে শুরুতেই শপথ কক্ষের ডায়াসে দাঁড়ান বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তবে একটি বিশেষ জায়গায় এসে বিএনপির সংসদীয় দল এক ধরণের কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করে। তারা আজ শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর জন্য নির্ধারিত বিশেষ শপথটি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন।
সংসদ ভবনে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বিএনপির প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় সংসদ সদস্যদের সাথে এক জরুরি সেশনে মিলিত হন। সেখানে তিনি দলের হাই-কমান্ডের বার্তা পৌঁছে দিয়ে জানান যে, তারা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করছেন না। দলটির এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে তাৎক্ষণিক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
তবে বিএনপির এই অনাগ্রহের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন পথে হেঁটেছে। দলটির নবনির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য সংসদ সদস্য পদের শপথের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের উপস্থিতিতে জামায়াত নেতারা এই দুটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
এদিকে, বিএনপির এই আকস্মিক শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরণের তোলপাড় শুরু হয়। এর প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা তড়িঘড়ি করে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। আজকের এই শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াতের পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং বিএনপির আংশিক শপথ গ্রহণের ঘটনাটি ত্রয়োদশ সংসদের আগামী দিনের কর্মপন্থা ও রাজনৈতিক মেরুকরণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।