‘কর হার না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানো হোক’: এনবিআরের প্রাক-বাজেট সংলাপে কামরান টি রহমান

উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের বোঝা আরও বাড়ানো হলে দেশ থেকে পুঁজি পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। সংগঠনের সভাপতি কামরান টি রহমান মনে করেন, ঢালাওভাবে করের হার বৃদ্ধি করা হলে দেশের সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং এটি সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে অংশীজনদের মতামতের অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়।

এমসিসিআই সভাপতি কর ব্যবস্থাপনার একটি বড় দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে দেশে এক কোটির বেশি মানুষের টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) থাকলেও রিটার্ন জমা দিচ্ছেন অর্ধেকেরও কম। এটি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা। তাই বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি না করে করের আওতা সম্প্রসারণের দিকে নজর দেওয়া হলে তা অধিক কার্যকর হবে।”

একই সভায় এমসিসিআই পরিচালক হাসান মাহমুদ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করতে করপোরেট করের হার আড়াই শতাংশ কমানোর দাবি জানান। সেই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে কোনো ধরনের ‘ন্যূনতম কর’ ব্যবস্থা থাকা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনায় নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (উইব) তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব পেশ করে। সংগঠনটির সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য ‘কর অবকাশ’ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা দেওয়ার জোরালো দাবি জানান। এছাড়া নারী করদাতাদের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবসায়ী নেতাদের এসব প্রস্তাব ও উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট ভ্যাট হার চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছি। এটি বাস্তবায়িত হলে আপনাদের আর জটিল ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।”

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং রাজস্ব আদায়ে ভারসাম্য আনতে এনবিআর সব অংশীজনের যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে সভায় জানানো হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া