বৈশ্বিক কফি সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র এশিয়ার বাজারগুলোতে বর্তমানে এক ধরনের অস্বাভাবিক শান্ত পরিস্থিতি বা স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভিয়েতনামে সরকারি ছুটির আমেজ এবং ইন্দোনেশিয়ায় নতুন ফসল আসার আগাম বার্তার প্রভাবে কফির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে এক ধরনের ধীরগতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিজনেস রেকর্ডার’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামের প্রধান কফি অঞ্চল ‘সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস’-এ বর্তমানে বেচাকেনার গতি অনেকটাই কমে গেছে। সেখানকার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কফি ৩ ডলার ৩২ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ৩৫ সেন্ট বা প্রায় ৮৭ হাজার ৩০০ থেকে ৮৮ হাজার ডং মূল্যে হাতবদল হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কয়েক দিন সরকারি ছুটি থাকায় এবং বাজার ব্যবস্থার ‘ডেডলাইন’ কাছাকাছি না হওয়ায় মে মাসের আগে বড় কোনো লেনদেনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত কফি বাগানগুলোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী মৌসুমে উন্নত মানের ফলন নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী চাষীরা।
অন্যদিকে, কফির আরেক বৃহৎ আধার ইন্দোনেশিয়ার চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে সুমাত্রা রোবাস্তা কফির ‘প্রিমিয়াম’ বা সংযোজিত মূল্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহে কফির প্রিমিয়াম যেখানে ছিল ১৫০ ডলার, চলতি সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ ডলারে। পশ্চিম লামপুং অঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন, সেখানে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় বাগানের পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক। নতুন ফসল বাজারে আসার সময় ঘনিয়ে আসায় এবং ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামের ঊর্ধ্বগতিতে এক ধরনের লাগাম পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এশিয়ার এই দুই প্রধান উৎপাদনকারীর বাজারে স্থিতাবস্থা বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ ছুটি শেষ হওয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার নতুন ফসল পুরোদমে বাজারে আসা পর্যন্ত কফি ব্যবসায়ীরা এক ধরনের ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বা অপেক্ষার কৌশল অবলম্বন করছেন। সব মিলিয়ে কফি প্রেমী ও বড় আমদানিকারকদের নজর এখন মে মাসের বাজার পরিস্থিতির দিকে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।