২০১৬ সালে রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়িতে’ তথাকথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য উপস্থাপনের দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ৬ মে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এর নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে মামলাটি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সময় প্রার্থনা করা হলে ট্রাইব্যুনাল নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আলোচিত এই মামলার মোট ৮ আসামির মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আদালতে এক চাঞ্চল্যকর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
যুক্তিতর্ক চলাকালীন আইনজীবী চৌধুরী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের একটি আন্তর্জাতিক মন্তব্যের উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে জুলাই আন্দোলনকে একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা নিখুঁত নকশা হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইনজীবীর প্রশ্ন—যদি এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত নকশা হয়ে থাকে, তবে সেই সময়ে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কার ওপর বর্তাবে? সত্যিকারের হত্যাকারী কারা, সেটি খতিয়ে দেখা আদালতের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি দাবি করেন।
শুনানি চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘মিরর নাউ’-এ হাসানুল হক ইনুর দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার ভিডিও আকারে প্রদর্শন করা হয়। আসামিপক্ষের দাবি, পুরো সাক্ষাৎকারটি বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইনু তৎকালীন সরকারের ঢাল হিসেবে কোনো বক্তব্য দেননি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কোনো সমর্থনও সেখানে ছিল না। আজ শুনানির পুরোটা সময় হাসানুল হক ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়টি এখন দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানের বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া