বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের মোট উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী এক অনুষ্ঠানে চুক্তিতে সই করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তটি সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি বহর পরিকল্পনার নির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের সক্ষমতা ও পরিচালনাগত নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিমান আরও সক্ষম হবে।
বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে দেশের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি বিস্তৃত ও সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোয়িংয়ের সঙ্গে এ চুক্তি করা হয়েছে।
বোয়িং জানিয়েছে, নতুন অর্ডারের পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিমানের বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করা যাবে। ৭৩৭-৮ বিমানের একক-আইল নেটওয়ার্কে আরও বেশি দূরত্বে চলাচলের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে ৭৮৭-১০ তুলনামূলক বেশি আসন ধারণক্ষমতার মাধ্যমে বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজগুলো প্রতিস্থাপিত উড়োজাহাজের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি জ্বালানি-সাশ্রয়ী। বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় এ দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন চুক্তিটি বিমানের এ বছরের আগের বড় উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির ধারাবাহিকতা। চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
দুটি চুক্তি মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা এখন ২৫টি। একই সময়ে বিমান আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াতেও এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিমান জানিয়েছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বোয়িংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, বিমানের এ অতিরিক্ত অর্ডার বহর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।নতুন উড়োজাহাজগুলো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সক্ষমতা ও পরিচালনাগত নমনীয়তা দিতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।