আকাশসীমা বন্ধ, শাহজালালে ৫৪ ফ্লাইট বাতিল: চরম বিপাকে ১০ হাজার বিদেশগামী যাত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট রুটের মোট ৫৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে আজ রোববার (১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত এই নজিরবিহীন ফ্লাইট বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে।


রোববার সকালে বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে ওই অঞ্চলের আকাশপথ এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো একের পর এক তাদের ‘শিডিউল’ বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে ঠিক কত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।


বিমানবন্দর সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গতকাল থেকে আকাশপথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৭টি ফ্লাইটের প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর বিদেশযাত্রা বাতিল হয়ে গেছে। হঠাৎ করে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু যাত্রী তাদের ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর বিড়ম্বনা লাঘবে এগিয়ে এসেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আটকে পড়া অনেক যাত্রীকে সরকারের পক্ষ থেকে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা রাজধানী বা এর আশেপাশের বাসিন্দা, তারা ইতোমধ্যে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ আরও জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত হলে এবং ফ্লাইট চলাচলের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেলে এয়ারলাইন্সগুলো স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যেক যাত্রীকে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পরবর্তী শিডিউল জানিয়ে দেবে। ততদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবার।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।