আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পথ প্রশস্ত: সংসদে পাস হলো সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অবশেষে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাস হয়। মূলত বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সংসদীয় বিশেষ কমিটি এই বিলে কিছুটা পরিবর্তনের সুপারিশ করলেও আজ কোনো প্রকার সংশোধনী ছাড়াই মূল বিলটি পাস হয়েছে।


এই আইনি সংশোধনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার পথ পরিষ্কার হওয়া। এর আগে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তাকে কেবল ‘তফসিলে তালিকাভুক্ত’ করে নিষিদ্ধ করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তাদের কার্যক্রম বা প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধের ঘাটতি ছিল। পাস হওয়া নতুন আইনের ফলে এখন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সত্তা বা সংগঠনের হয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সমাবেশ কিংবা জনসম্মুখে কোনো প্রকার বক্তৃতা প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য হবে।


আজকের অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিলটির ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেন, “বিলে বর্ণিত তুলনামূলক তথ্য সংবলিত শিটটি আমরা মাত্র ৩-৪ মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এত অল্প সময়ে এই স্পর্শকাতর আইনটি পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। জনস্বার্থ রক্ষায় আমাদের আরও কিছু সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল।” তবে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর এই আপত্তি নাকচ করে দেন। স্পিকার জানান, আইনত আপত্তি জানানোর একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, যা এই পর্যায়ে এসে গ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।


পাল্টা বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এটি মূলত একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিল। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে, তার আলোকেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এই আইনের অনুবলে নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে এবং পরবর্তীতে আইসিটি অ্যাক্টেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।”


নতুন এই আইনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। কোনো নিষিদ্ধ সত্তা যদি ফেসবুক বা অনলাইনের মাধ্যমে কোনো প্রচারণা চালায়, তবে তাও অপরাধের আওতায় আসবে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু অনুমোদন করার সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি, যার মধ্যে এই সন্ত্রাসবিরোধী বিলটিও অন্যতম। আজকের বিল পাসের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সত্তার পক্ষে প্রচারণার সব পথ রুদ্ধ করা হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।